কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম ফুল্লরার বারোমাস্যা

West Bengal

ফুল্লরার বারোমাস্যা কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘চণ্ডীমঙ্গল’, ‘অভয়ামঙ্গল’ থেকে নেওয়া। কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম ফুল্লরার বারোমাস্যা।

কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম ফুল্লরার বারোমাস্যা
কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম ফুল্লরার বারোমাস্যা

 

কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম ফুল্লরার বারোমাস্যা

এখানে মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ফুল্লরার জীবনের ১২ মাসের যে কাহিনী বর্ণনা করেছিলেন তাহারি সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেওয়া হবে।

চন্ডীমঙ্গলের কাহিনীতে ফুল্লোরার জীবনের যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তার থেকে পাঁচটি প্রশ্ন কে নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয়েছে।

১) কবিকঙ্কন মুকুন্দ চক্রবর্তীর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও

উ: বর্ধমান জেলার দামুন্যা গ্রামে ষোড়শ শতকে মুকুন্দরাম চক্রবর্তী জন্মগ্রহণ করে।

সাত পুরুষের বাস্তুভিটে ত্যাগ করে মেদিনীপুর জেলার অরডা গ্রামের জমিদার বাঁকুড়া রায় এর আশ্রয় লাভ করে।

ডিহিদার মামুদ শরিফের অত্যাচারী তাদেরকে সপরিবারে বাস্তুভিটে ত্যাগ করতে হয়েছিল।

বাঁকুড়া রায়ের পুত্র রঘুনাথের গৃহশিকক হিসেবে নিযুক্ত হয়। আর তিনি এখানেই তার বিখ্যাত কাব্য ‘চন্ডীমঙ্গল কাব্য’ লিখে ‘কবিকঙ্কন’ উপাধি লাভ করে।

২) কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী এটা কি সঠিক নাম?

উ: কবি নিজেকে কোথাও তাঁর কাব্যে মুকুন্দরাম এই নামটি লেখেনি।

তিনি লিখেছেন কবি মুকুন্দ তার রচনা আর খ্যাতি ও মানুষের প্রতি তার নামে ‘রাম’ নামটি যুক্ত হয়ে যায়।

আর সেজন্যই হয়তো মঙ্গলকাব্যের কবিদের নামের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে যেমন- মানিকরাম, কবি ঘনরাম এমনটি হয়ে থাকবে।

৩) বারমাস্যা কাকে বলে? বারোমাস্যা উদ্ভবের কারণ কি? বারোমাস্যা কত ধরনের?

উ: বারমাস + ইয়া = বারমাসিয়া > বারমাস্যা। বারোমাসের কাহিনী।

নায়িকা যখন নিজঅন্তরঙ্গ কাউকে তার হৃদয়ের সারা বছরের সুখ-দুঃখের কথা বলে, তখন তাকে বারোমাস্যা বলে।

মধ্যযুগের নারীদের আত্মপ্রকাশের কোন জায়গা বা সুযোগ ছিলনা। সে কারণেই তাদের হৃদয়ের যে বেদনা তার প্রকাশের রীতি এই বারমাস্যা।

৪) আষাঢ়ের অভিজ্ঞতা ফুল্লরার কেমন?

উ: নব মেঘে জল দেখা যায়। আষাঢ় মাসে এই সময় সম্পন্ন ব্যক্তি যারা তাদের সামর্থ ফুরিয়ে যায়।

ফলে কারো মাংস কেনার উপায় টুকুও থাকেনা। যৎসামান্য যে মাংস বিক্রি হয় তাতেও পেট ভরে না।

এই দুঃখের কথা সে কাকেই বা জানাবে। এই জন্য যে ঘরে বাবা-মা তাকে বিয়ে দিয়েছিল তাদেরকে সে দোষারোপ করতে থাকে।

৫) পৌষ মাসে ফুল্লোরা দুঃখ ভোগ করে কেন?

উ: পৌষ মাসে সবাই সুখ ভোগ করে কারণ শীত নিবারণের উপকরণ দরকার তাদের কাছে সেটা আছে।
 তারা গায়ে তেল মাখে, তুলার লেপ গায়ে দেয়, আগুন পোহায়, সূর্যের তাপ ভোগ করে এভাবে তাদের শীত উপভোগ হয়।
 কিন্তু ফুল্লোরা এসব কিছুই করতে পারেনা। সবকিছু থেকে সে বঞ্চিত।
 বিনিময় কোথায় হরিণ বিক্রি করে একটা পুরনো খোসলা পেয়েছিল। তা ধুলায় পরিপূর্ণ। আর সেটা যদি সে গায়ে দেয়, তার সারা দেহে ধুলোয় ভরে যাবে। এইজন্য ধুলোয় চোখ মেলে তাকাতে পারে না।

Leave a Reply