ইউটিউবাররা রোজগার কীভাবে করে (How YouTubers Make Money)

Make Money YouTube

সারা দেশ এখন টানা লকডাউনে মন্দার পরিস্থিতির সম্মুখীন। বহুজাতিক সংস্থাায় চাকরিরত পেশাদার মডেল থেকে বহু মানুষ কর্মহীন। ইউটিউবাররা রোজগার কীভাবে করে (How YouTubers Make Money)।

পরিস্থিতি প্রত্যেক দিন হয়ে উঠছে জটিল থেকে জটিলতর। মানুষের খরচ যদিও কমছে না! এই পরিস্থিতিতে বাড়তি আয়ের দিশা হয়ে উঠতে পারে ইউটিউব

ইউটিউবাররা রোজগার কীভাবে করে?

অনেকের ধারণা রয়েছে যে, বোধ হয় চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা বাড়লেই, ইউটিউবের তরফ থেকে ব্যাংক একাউন্টে মোটা অঙ্কের টাকা জমা পড়বে।

বিষয়টা কিন্তু একেবারেই তা নয়। একটি পোস্ট করা আপনার ভিডিয়োয় কত সংখ্যক ‘ভিউজ়’ হল, তার উপরেও রোজগার নির্ভর করে না ইউটিউবারদের।

নির্ভর করে আপনার পোস্ট করা ভিডিয়োয় বিজ্ঞাপন আসছে কি না, তার উপর।

মোটামুটি চার রকমের বিজ্ঞাপন ইউটিউবে দেখা যায়। স্কিপেব্‌ল ও নন-স্কিপেব্‌ল অ্যাড, ডিসপ্লে অ্যাড এবং  ব্যানার অ্যাড।

বিজ্ঞাপনের দরও বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে প্রতিটি ক্ষেত্রে। এছাড়াও বিভিন্ন দেশে বিজ্ঞাপনের দরও আলাদা হয়।

এই বিজ্ঞাপন গুলির মধ্যে নন-স্কিপেব্‌ল বিজ্ঞাপনের দর সবচেয়ে বেশি। কোন ভিডিয়োয় ১০ লক্ষের কাছাকাছি ‘ভিউজ়’ পেলে, নতুন ইউটিউবাররা বিজ্ঞাপন থেকে পাঁচ-ছ’হাজার টাকা রোজগার করতে পারে।

ইউটিউবে আপনার জনপ্রিয়তা কতটা ও কোন দেশের সংস্থা কেমন বিজ্ঞাপন দিচ্ছে — এগুলির উপরেই পুরো বিষয়টা নির্ভর করে থাকে। তবে কিি্তুন পুরো বিষয়টাই হচ্ছে আপেক্ষিক।

আরো দেখুন: Technical Guruji buy Rolls Royce Car on YouTube earning

ইউটিউবাররা রোজগার কীভাবে করে (How YouTubers Make Money)

মূলত দু’ভাবে ইউটিউবাররা রোজগার করে থাকে–

  •  চ্যানেলে পোস্ট করা ভিডিয়োয় বিজ্ঞাপনের কমিশন থেকে আসা অঙ্ক।
  • পেড-প্রোমোশন।

কোনও কোনও ব্র্যান্ড অনেক সময় তাদের প্রডাক্টকে আরও বেশি জনপ্রিয় করে তোলার জন্য ‘সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার’দের খোঁজ করে থাকে।

এ ক্ষেত্রে তারা অনেক সময়েই ইউটিউবারদের বেছে নেন। সে ক্ষেত্রে ইউটিউবারের সঙ্গে সংস্থার তরফ থেকে যোগাযোগ করে প্রডাক্টের প্রচার করতে বলা হয়।

এর বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি অঙ্কের টাকা পান ইউটিউবাররা। কিন্তু সেই টাকার অঙ্কটা কত, তা নির্ভর করে ইউটিউবারের জনপ্রিয়তা ও তাঁর ভিডিয়োয় ‘ভিউজ়’ কত তার উপরে।

যাঁরা ইউটিউবে নতুন চ্যানেল খোলার কথা ভাবছেন, তাঁরা প্রথমেই ‘টার্গেট অডিয়েন্স’ ঠিক করে নিন।

এ ক্ষেত্রে, ভিডিয়োয় ইংরেজিতে কথা বললে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের মানুষের কাছে আপনার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হবে এবং সেই অনুসারে বিজ্ঞাপনও পেয়ে যাবেন।

প্রসঙ্গত, আপনার তৈরি ভিডিয়োটি যদি ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার মতো এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষ বেশি দেখেন, তা হলে আপনি বিজ্ঞাপনের এক রকম দর পাবেন।

আবার আপনার সেই ভিডিয়োটিই যদি আমেরিকা, কানাডা কিংবা ইউরোপের মানুষ বেশি দেখেন, তা হলে বিজ্ঞাপনের দর আলাদা হবে।

তাই চেষ্টা করুন, ইংরেজিতেই ভিডিয়ো করার। আরও বেশি বিজ্ঞাপন পেতে গেলে আপনাকে ইউটিউবে আবেদন করতে হবে।

সে ক্ষেত্রে শর্ত হল, চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা অন্তত এক হাজার হতে হবে এবং আপনার পোস্ট করা ভিডিয়োগুলির মোট ‘ভিউড আওয়ার্স’ অন্তত চার হাজার ঘণ্টা হতে হবে।

তবে শুধু রোজগারের উদ্দেশ্যেই যদি ইউটিউবে ভিডিয়ো আপলোড করেন, তা হলে জোর দিতে হবে ভিডিয়োর বিষয়ের উপরে।

তাই এমন কোনও বিষয়-কেন্দ্রিক চ্যানেল খুলতে পারেন, যেটা ব্যক্তিগত জীবনে আপনি করতে ভালবাসেন।

ধরা যাক, আপনি ভাল রান্না করতে পারেন কিংবা বেড়াতে ভালবাসেন— সে ক্ষেত্রে আপনি ভিডিয়ো কিংবা ব্লগ বানিয়ে পোস্ট করতে পারেন।

এই প্রসঙ্গে নতুন ইউটিউবার পৌষালী দাশগুপ্ত বলছিলেন,

‘‘দর্শক বোকা নন, এটা মাথায় রেখেই ভিডিয়ো বানাতে হবে।

পাশাপাশি জোর দিতে হবে ভিডিয়োর কনটেন্টের উপরে। ভিডিয়োর কনটেন্ট ভাল হলে, ডিসপ্লে-কোয়ালিটি কিছুটা খারাপ হলেও দর্শক আপনার ভিডিয়ো দেখবেন।’’

আরো পড়ুন: বাংলাদেশ সরকার ইউটিউব নেটফ্লিক্স থেকে সঠিক ট্যাক্স পাচ্ছে না

How YouTubers Make Money

তাই চ্যানেল শুরু সময় থেকেই ঠিক করে নিন, আপনি প্রাথমিক ভাবে কোন ‘থিম’-এর উপর ভিডিয়ো পোস্ট করতে চান। সেই মতো চ্যানেল সেট-আপ করুন।

প্রথমে যদি মোটা টাকা শুটিং গ্যাজেটের পিছনে ব্যয় করতে না চান, তা হলে স্মার্টফোন দিয়েই কাজ শুরু করে দিন। খেয়াল রাখুন, অডিয়ো যেন পরিষ্কার আসে।

যেখানেই ভিডিয়ো শুট করুন না কেন, জায়গাটি যেন ছিমছাম এবং সুন্দর হয়। পাশাপাশি জায়গাটিতে যথেষ্ট আলো রয়েছে কি না, সেটাও দেখে নিন।

প্রয়োজনে রিফ্লেক্টর কিনে নিতে পারেন। যদি একটু বেশি ভাল ভিডিয়ো করতে চান, সে ক্ষেত্রে ফোর-কে রেজ়লিউশনের ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারেন।

তার সঙ্গে কোনও ভাল ব্র্যান্ডের ল্যাপেল লাগিয়ে নিন। ইউটিউবার হিসেবে রোজগার বাড়লে, নয়েজ-ফ্রি সাউন্ড ক্যাচার কিনে নেবেন।

ভিডিয়ো তৈরির পর এডিটিং খুব জরুরি। তাই নিজে না পারলে পেশাদার কাউকে দিয়ে ভিডিয়ো এডিট করিয়ে নিন।

চেষ্টা করুন, ভিডিয়োয় ‘নিজস্বতা’ বজায় রাখার। যে ভিডিয়োই চ্যানেলে পোস্ট করুন, কখনও নিজেকে ‘ওভার-স্মার্ট’ দেখাতে যাবেন না। ব্যক্তিগত জীবনে আপনি যে রকম, সে ভাবেই নিজেকে পেশ করুন।

এতে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। পাশাপাশি আরও বেশি সংখ্যক মানুষ আপনার সঙ্গে একাত্মবোধ করবেন।

আরো পড়ুন: Expose Speach by Sreelekha Mitra on Youtube Channel

এই প্রসঙ্গে একজন জনপ্রিয় ইউটিউবার বলছিলেন,

‘‘ভিউয়ার্সকে নিজের পরিবর্ধিত পরিবার মনে করতে হবে।

আমি যে ভাবে বাবা, মা, ভাইয়ের সঙ্গে মিশি, ঠিক সেই ভাবেই ভিডিয়ো বানাতে হবে।’’

একটু ব্যক্তিগত টাচই সর্বজনীন করে তুলতে পারে আপনার ভিডিয়োকে।

Leave a Reply