সাহিত্য হল সমাজের দর্পণ। সাহিত্যের বিষয় মানব চরিত্র এবং মানব হৃদয়। বাংলা সাহিত্যের প্রথম দিকে অর্থাৎ নবম দশম শতাব্দী থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য পাঠ করে আমার ঐ সময় কালের জনজীবন, ধর্ম-সংস্কৃতি, আর্থ-সামাজিক ও ঐতিহাসিক পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি ধারনা তৈরী করতে পারবো। যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির ইতিহাস ও পরম্পরা সম্পর্কে দার্শনিক নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জানতে পারবো।

এবং উনিশ-বিশ শতকে আর্থ সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনে জন-জীবনের যে পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে তার ছাপ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় পড়ছে এবং এর সমাজ-সংস্কার আন্দোলন, ধর্ম সংস্কার আন্দোলন, নতুন সাংস্কৃতিক চেতনার জন্ম হচ্ছে সেগুলি সম্পর্কে পরিচয় লাভ করতে পারবো।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস

বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন চর্যাপদের সূচনা থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে সাধারণভাবে প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক – এই তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে। আদিযুগ বা প্রাচীন যুগ (৯৫০-১২০০ খ্রি:) মধ্যযুগ (১২০১-১৮০০ খ্রি:) আধুনিক যুগ (১৮০১ খ্রি: - বর্তমান কাল) বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ সম্পর্কে পণ্ডিতেরা ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তবে অনেকেই এই তিনটি যুগবিভাগ স্বীকার করেন।

ইংরেজি ‘লিটারেচার’ ( Literature) – এর প্রতিশব্দ ‘সাহিত্য’ শব্দটি আমরা অনেকেই ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু ‘Literature’ বলতে সাধারণত ভাবে, এমন কিছু যা বইয়ে ছাপা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সাহিত্য মানে সেই যা মানুষের জন্য সর্বজনীন স্বার্থ। যা স্থানীয় বা পেশাগত বা কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তা সাহিত্যের অন্তর্গত হবে না।

সাহিত্য কাকে বলে? সাহিত্য সেই বইগুলি নিয়ে গঠিত যা তাদের বিষয়বস্তু এবং লিখন শৈলীর কারণে সাধারণ মানুষের আগ্রহের বিষয়। সাহিত্য মূলত আনন্দ দেওয়ার জন্য। রান্নার বই, আইনি গ্রন্থ, পঞ্জিকা এগুলো কিন্তু সাহিত্যের অন্তর্গত নয়, কিন্তু গ্রিক নাটকের উপর শেক্সপিয়ারের নাটক হচ্ছে সাহিত্য কারণ এটি বিষয়বস্তু এবং লিখন শৈলীর পদ্ধতির কারণে নান্দনিক তৃপ্তির প্রাথমিক কাজটি পূরণ করে।

সাহিত্যের পরিভাষার কোন বাস্তব সম্মতি বা একক সব সংজ্ঞা নেই। একারনেই সাহিত্য কি বা কাকে বলে? তা বলা খুব কষ্ট সাধ্য। অধিকাংশই পণ্ডিতগন সাহিত্যের সংজ্ঞা তাদের বিষয়গত অভিজ্ঞতা এবং তাদের প্রসঙ্গ অনুযায়ী দিয়েছেন।

সাধারণ ভাবে বলতে গেলে বাংলা সাহিত্য হল বাংলা ভাষার দ্বারা রচিত সাহিত্যকর্ম।

আবারও সাহিত্য কাকে বলে? ‘সাহিত্য’ বলতে আমরা সেসব রচনা গুলোকেই স্বীকৃতি দেই, যেগুলো জীবন প্রবাহের বিচিত্র ও জটিল অভিজ্ঞতাসমূহকে মন্থন করে কোনো ‘বিশেষ সৃজন’ রূপে যার সৃষ্টি বা উদ্ভব।

সাহিত্য হচ্ছে মানুষের সৃষ্ট শিল্প সাহিত্য ব্যাপক ও বিচিত্র একটি ধারণা। সাহিত্যের যে কোন রূপ বা আঙ্গিক বিচারের ক্ষেত্রে সাধারণত বিষয়বস্তু এবং শিল্পরূপ বা প্রকরণ – এ দুটি মানন্ড বিবেচ্য।

কবিতা, নাটক, উপন্যাস, ছোটগল্প ও প্রবন্ধ সাহিত্যের একেকটি রূপ বা Form এই রূপ বা গঠনগত স্বাতন্ত্র্যের কারণেই প্রতিটি সাহিত্য আঙ্গিক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে রয়েছে। যেমন কবিতার রূপ গড়ে ওঠে তার ভাবনিষ্ট অন্তর্ময় বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে প্রবন্ধের অবস্থান তার বিপরীত মেরুতে। প্রবন্ধ বস্তুনিষ্ট ও বিশেষণধর্মী। তেমনি নাটকে দেখা যায়, নাট্যকার, অভিনেতা, মঞ্চ ও দর্শক একটা সামবায়িক শিল্পক্ষেত্র রচনা করেছে।

বাংলা সাহিত্যের  ইতিহাস:-

১ – আদিযুগ বা প্রাচীন যুগ :-

বাংলা সাহিত্যের সামগ্রিক ইতিহাসকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে। এর প্রথম যুগের নাম প্রাচীন যুগ। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন চর্যাপদ ।

মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রাজগ্রন্থশালা থেকে ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত এবং বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সাহায্যে ১৯১৬ সালে প্রকাশিত ‘হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামক গ্রন্থের চব্বিশ জন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যের রচিত চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ের সাতচল্লিশটি গান চর্যাপদ নামে পরিচিত।

চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের গূঢ় সাধনপ্রণালী ও দর্শনতত্ত্ব নানা প্রকার রূপকের মাধ্যমে আভাসে ইঙ্গিতে ব্যক্ত হয়েছে। প্রাচীন বাংলা ভাষায় রচিত এ পদগুলোর যেমন সাহিত্যিক মূল্য বিদ্যমান, তেমনি প্রাচীন বাঙালি সমাজের চিত্রও এতে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত।

ধর্মনির্ভর, আধ্যাত্মিক ও আত্মগত ভাবানুভূতিপ্রধান বিষয়বস্তু অবলম্বনে আদি যুগের বাংলা সাহিত্য তৎকালীন সম্প্রদায়গত বিভেদ বিচ্ছেদ উপেক্ষা করে একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত রূপ নিয়েছিল ।

চর্যাপদ আবিষ্কারের মাধ্যমে বাংলা ভাষার আদি স্তরের লক্ষণ সম্পর্কে অবহিত হওয়া সম্ভব হয়েছে। সেই সঙ্গে পালযুগের সাধারণ বাঙালির সমাজ ও সংস্কৃতির পরিচয় এতে রূপলাভ করেছে।

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন বলে বিবেচিত হওয়ায় প্রাচীন বাঙালির জীবন ও সাধনা সম্বন্ধে অনেক রহস্যের সমাধান ঘটেছে। চর্যাপদ সদ্য নির্মীয়মান বাংলা ভাষার নিদর্শন। এর রচয়িতাগণ দুরূহ ধর্মতত্ত্বকে সহজবোধ্য রূপকে উপস্থাপন করেছেন। আর সেই সঙ্গে রেখেছেন কবিতশ্রুক্তির উজ্জ্বল স্বাক্ষর।

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস :-

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগকে আবার ৩টি ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা অন্ধকার যুগ, আদি মধ্যযুগ ও অন্ত মধ্যযুগ।

অন্ধকার যুগ :-

বাংলা সাহিত্যের আদিযুগের সঙ্গে মধ্যযুগের বিস্তর পার্থক্য বিদ্যমান। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত সময় মধ্যযুগ বলে চিহ্নিত। এর মধ্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত ১৫০ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।

নানা কারণে এ সময়ের তেমন কোন উল্লেখযোগ্য সাহিত্যসৃষ্টির নিদর্শন পাওয়া যায় নি। তবু ১২০০ সাল থেকেই মধ্যযুগের সূত্রপাত ধরতে হয়।

আদি ও অন্ত মধ্যযুগ :-

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য বিভিন্ন শাখা প্রশাখায় বিভক্ত । শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য দিয়ে মধ্যযুগের শুরু। পরবর্তী পর্যায়ে মঙ্গলকাব্য, অনুবাদ সাহিত্য, বৈষ্ণব পদাবলি, জীবনী সাহিত্য, নাথসাহিত্য, রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান, লোকসাহিত্য ইত্যাদি সাহিত্যসৃষ্টি এই যুগকে পরিসরে ও বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করেছে।

মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন বড়ু চণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্য। আনুমানিক চৌদ্দ শতকের শেষার্ধে বা পনের শতকের প্রথমার্ধে কবি বড়ু চণ্ডীদাস রাধাকৃষ্ণের প্রেমকাহিনি অবলম্বনে এ কাব্য রচনা করেন।

মধ্যযুগের বিরাট পরিসর জুড়ে মঙ্গলকাব্যের উদ্ভব ঘটেছিল। দেবদেবীর মাহাত্ম্যসূচক এই কাব্যধারার সূত্রপাত হয় পনের শতকে। তবে ষোল শতকে এর সর্বাধিক প্রসার ঘটে। ধর্মমঙ্গল, মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, শিবমঙ্গল বা শিবায়ন প্রভৃতি এ পর্যায়ের বিভিন্ন শাখা ।

শ্রীচৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) আবির্ভাবের ফলে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ নতুন কাব্য সম্পদে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। শ্রীচৈতন্যদেবের জীবন কাহিনি অবলম্বনে জীবনী সাহিত্যের বিকাশ সাধিত হয়। বৃন্দাবন দাসের ‘চৈতন্যভাগবত’, লোচনদাসের চৈতন্যমঙ্গল’, কৃষ্ণদাস কবিরাজের ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ প্রভৃতি এ পর্যায়ের উল্লেখযোগ্য জীবনী কাব্য।

মধ্যযুগে আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্যের চর্চা হয় এবং সেখানকার মুসলমান কবিগণ ধর্মসংস্কারমুক্ত মানবীয় প্রণয়কাহিনি অবলম্বনে কাব্য রচনা করে নতুনতর বৈশিষ্ট্য দেখান। দৌলত কাজী ও আলাওল এ সময়ের শ্রেষ্ঠ কবি।

মধ্যযুগে নাথসাহিত্য, শাক্ত পদাবলী এবং বাউল ও অপরাপর লোকসঙ্গীতের প্রচার দেখা যায়। ময়মনসিংহ গীতিকা ও পূর্ববঙ্গ গীতিকা এ যুগের সৃষ্টি।

সাহিত্যের আধুনিক যুগ :-

১৮০০ সাল থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের শুরু। ১৮০০ থেকে ১৮৬০ পর্যন্ত সময়টুকু প্রথম পর্যায় এবং ১৮৬০ থেকে আধুনিক পাশ্চাত্য সাহিত্যের প্রভাবেই আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সূত্রপাত। আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায়ে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয় এবং সাহিত্যের ভাষা হিসেবে গদ্য পরিণত পর্যায়ে উন্নীত হয়।

গদ্যের উৎকর্ষ সাধনের ফলে গদ্যনির্ভর সাহিত্য – যেমন প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস, নাটক সৃষ্ট হয়ে বাংলা সাহিত্যকে বৈচিত্র্যমুখী করে তোলে।

উইলিয়াম বেরির অধিনায়কত্বে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকগোষ্ঠী বাংলা গদ্যের ধারাবাহিক চর্চা শুরু করেন। পরবর্তীকালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখের মাধ্যমে তা সাহিত্যের যথার্থ বাহন হয়ে ওঠে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসই বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক উপন্যাস। মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম সার্থক নাট্যকার। মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর অমর সৃষ্টি মেঘনাদবধকাব্যের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে মহাকাব্যের ধারার প্রবর্তন করেন। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দ সৃষ্টি করে বাংলা ছন্দের ক্ষেত্রেও যুগান্তর ঘটান। বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যে প্রথম গীতিকবিতার প্রবর্তন করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবির্ভাবে বাংলা সাহিত্যের সর্বোত্তম বিকাশ ঘটে। সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় রবীন্দ্রনাথ শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন রেখে গেছেন। বাংলা সাহিত্যের হাজার বছরেরও অধিক কালের ইতিহাসে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি উন্নতি সাধিত হয়েছে আধুনিক যুগের উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে বিশ শতকের শেষ পর্যন্ত এই ১৫০ বছরে।

উ:- প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগ।

উ:- পদ্মাবতী ও অন্নদামঙ্গল

উ:- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

উ:- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

উ:- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’

উ:- ঈশ্বর গুপ্তের মৃত্যুর সঙ্গে।

♦
প্রাচ্য এবং প্রতীচ্যের রীতিবাদ আবির্ভাবের মধ্যে পার্থক্য কম করেও হলেও এক হাজার বছর।
♦ রীতিবাদের প্রথম প্রবক্তা আচার্য বামনের আবির্ভার কাল অষ্টম – নবম শতাব্দীতে।
♦ ” রীতিরাত্মা কাব্যস্য বিশিষ্টা পদ রচনা রীতি। বিশেষ গুনাত্মা। ” অর্থাৎ কাব্যের আত্মা হল রীতি। – আচার্য বামন।
♦ রাজশেখরের আবির্ভার কাল দশম শতাব্দী। বিখ্যাত গ্রন্থ কাব্যমিমাংসা। বিখ্যাত উক্তি ” বচনবিন্যাসক্রমো রীতি: “।
♦ রাজশেখর তার কাব্যমিমাংশ গ্রন্থে অলংকার শাস্ত্রের পরিবর্তে ” সাহিত্যবিদ্যা ” শব্দটি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।
♦ রাজশেখরের সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব ” শব্দপাক ” শব্দের উল্লেখে। কাব্যের উৎকর্ষের খাতিরে যে শব্দ বা পদ অপরিবর্তনীয় বা অপরিহার্য হয়ে ওঠে তাই শব্দপাক।
♦ কুম্ভকাচার্য দশম-একাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত হন। তিনি বক্রোক্তির উপর জোর দেন।তিনি রীতিবাদের শেষ ব্যাখ্যাতা।
♦অলংকার শাস্ত্রের শেষ প্রতিভাধর ব্যাখ্যাতা হলেন পণ্ডিতরাজ জগন্নাথ। তিনি সম্রাট শাজাহানের দরবারে স্থান পেয়েছিলেন। তার বিখ্যাত উক্তি ” রমনীয়ার্থ প্রতিপাদক: শব্দ: কাব্যম।” তিনি আরো বলেছিলেন যে, কাব্যের অর্থ রমনীয় হতে হলে তাকে রসস্নিগ্ধ হতে হবে।
♦ অমরকোষ এ বলা হয়েছে ” প্রচারস্যন্দয়ো রীতি: “। ‘প্রচার’ অর্থ লোকাচার, ‘সান্দ্য’ অর্থ প্রস্রবণ অর্থাৎ তরল পদার্থের গড়িয়ে যাওয়া। ভারতীয় সাহিত্যতত্ত্বে রীতি শব্দটি গমনার্থক বা প্রস্রবনার্থক ‘রী’ ধাতু থেকে নিস্পন্ন হয়ে যৌগিক অর্থের অতিরিক্ত একটি পারিভাষিক অর্থ অর্জন করেছিল তাতে সন্দেহ নেই।
সাহিত্যদর্পনের টিকাকার মহামহোপাধ্যায় হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ মন্তব্য করেছিলেন ” রীতি: প্রথা ব্যবহার ইতি পর্যায়: “।
♦ সপ্তম শতাব্দীর আলঙ্কারিক দণ্ডী তার ‘কাব্যাদর্শ’ এ জানিয়েছিলেন যে, প্রত্যেক কবির রচনারীতিতে সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে, বাকপ্রয়োগের নানাবিধ পদ্ধতি আছে, তার বিস্তৃত ব্যাখ্যাও সম্ভব নয়। ” অস্ত্যনেকো গিরাং মার্গ: সূক্ষভেদ: পরস্পরম “।
(সংগৃহীত পোস্ট)
তথ্য সংগ্রহ :-
১. কাব্যালোক – সুধীর কুমার দাশগুপ্ত
২. সাহিত্যদর্পন – অনুবাদ : অবন্তীকুমার সান্যাল
৩. কাব্যজিজ্ঞাসার রূপরেখা – করুনাসিন্ধু দাস
৪. গদ্যরীতি পদ্যরীতি – পবিত্র সরকার
৫. শৈলী বিজ্ঞান – অপূর্বকুমার রায়
৬.প্রচ্যরীতিবাদ ও প্রতীচ্যের শৈলীবিজ্ঞান

উঃ) উইলিয়াম কেরী ,ওয়ার্ড এবং মার্শম্যান ।

উঃ,) উইলিয়াম কেরী । এটি “St Mathew’ Gospel”- এর বাংলা অনুবাদ।

উঃ) রামরামবসু রচিত ” রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র”( 1801).

উঃ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ।

উঃ) রাজীব লোচন মুখোপাধ্যায় । (এটি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের জীবনী অবলম্বনে লিখিত ।)

উঃ) চন্ডীচরণ মুন্সি ।

উঃ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ(1833) । রাজা রামমোহন রায় রচয়িতা।

উঃ) মধুসূদন দত্তের “কৃষ্ণ কুমারী “-(1861) নাটক ।

 16)দীনবন্ধু মিত্রের ” নীলদর্পন”- নাটকটির ইংরাজী অনুবাদের নাম কি ? উঃ) “The Indigo Indigo Planting Mirror ” ।
17) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক গীতিকবি কে ? উঃ) বিহারীলাল চক্রবর্তী ।
18) বিহারী লাল চক্রবর্তীর প্রথম কাব্যের নাম কি ? উঃ) সঙ্গীত শতক (1862).।[ শ্রেষ্ট কাব্য– ” সারদামঙ্গল “(1862) ]
19) ডি, কুইন্সিক ” Confessions Of an English Opium Eater”– _ অবলম্বনে বঙ্কিম চন্দ্র রচিত গ্রন্থের নাম কি ? উঃ) ” কমলাকান্তের দপ্তর” ।
20) “ছোটগল্প”– নামে1894 সালে একটি গল্প সংকলন কে প্রকাশ করেন ? উঃ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
21) বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ” পথের পাঁচালী” -উপন্যাসের প্রকাশ কাল কত? কোন পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয় ? উঃ) প্রকাশকাল 1929 । বিচিত্রা” পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয় ।
22) ” পথের পাঁচালী”— উপন্যাস কটি পর্বে বিভক্ত ? কি কি ? উঃ) ” পথের পাঁচালী”- উপন্যাস তিন পর্বে বিভক্ত।ক) বল্লালী বালাই” খ) আম আঁটির ভেঁপু গ) অক্রুর সংবাদ ।
**** প্রথম পর্বে শিশু অপুর কাহিনী, দ্বিতীয় পর্বে বালক অপুর মানসিক বিকাশের চিত্র, আর তৃতীয় পর্বে আছে গ্রাম ছেড়ে অপুদের কাশীযাত্রা এবং বৃহত্তর জগতের সঙ্গে কিশোর অপুর পরিচয়।
23) ” হাঁসুলি বাকের উপকথা” (1947) রচয়িতা কে ? এটি কি ধরনের উপন্যাস ? উঃ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় । আঞ্চলিক উপন্যাস ।
24)”পুতুল নাচের ইতিকথা”,(1836) ” শহর বাসের ইতিকথা (1846) রচয়িতা কে ? উঃ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ।
25) নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্য গ্রন্থের নাম কি ? উঃ) ” অগ্নিবীণা(1922).
26) ” স্বপ্ন প্রয়াণ”–(1874) — রূপকধর্মী কাব্য গ্রন্থের রচয়িতা কে? উঃ) দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর ।[ ইংরাজী কবি Spencer এর ” Faerie Queen ” – কাব্যের আর্দশে রচিত । ]
27) ” সেকাল আর একাল”— (1875) প্রবন্ধ গ্রন্থটির রচয়িতা কে ? উঃ) রাজনারায়ণ বসু ।
28) “সামাজিক প্রবন্ধ”-(1892) রচয়িতা কে ? উঃভূদেব মুখোপাধ্যায়।
29)” মহিলা কাব্য” – (1871) রচয়িতা কে ? উঃ) সুরেন্দ্রনাথ মজুমদার ।
30)” ভারত বর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায় “– প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে ? উঃ) অক্ষয় কুমার দত্ত।( প্রকাশকাল : প্রথমভাগ 1870, দ্বিতীয় ভাগ1883 ) । গ্রন্থটই H,H, Wilson প্রণীত ” The Religious Sects Of Hindoos আবলম্বনে রচিত ।
31) ” বিবিধ প্রবন্ধ”- গ্রন্থের রচয়িতা কে ? উঃ) বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় । [ ১ম খন্ড 1887, ২য় খন্ড 1892] এটি বস্তুনিষ্ট প্রবন্ধের( Objective Essay ) সার্থক নির্দশন ।
32) ” বিচিত্রা প্রবন্ধ”–(1907) রচয়িতা কে ? উঃ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । ব্যক্তিনিষ্ট প্রবন্ধ( Subjective Essay” )- এর সার্থক উদাহরন ।
33)” দশ মহাবিদ্যা (1882)”– কাব্য গ্রন্থের রচয়িতা কে ? উঃ হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
34)” তিথিডোর” -উপন্যাসের রচয়িতা কে ? উঃ) বুদ্ধদেব বসু । 35)” জীবন স্মৃতি (1912) — আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থের নাম কি ? উঃ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
36)” ছন্দ সরস্বতী”— প্রবন্ধের রচয়িতা কে ? উঃ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ।
37) ” জমিদার দর্পন”–(1873) রচয়িতা কে ? উঃ) মীর মশাররফ হোসেন ।
38)” চিন্তাতরঙ্গিনী”– কাব্যটি কোন্ কবির প্রথম প্রকাশিত কাব্য ? উঃ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
39)” কুলায় ও কালপুরুষ”–(1957) প্রবন্ধ গ্রন্থের রচয়িতা কে ? উঃ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
40) ” কল্লোল”- নাটকটির রচয়িতা কে ? উঃ উৎপল দত্ত ।[ ভারতীয় নৌবাহিনীর বিদ্রোহ— এর বিষয় বস্তু].
41)” একদা”(1939), “অন্যদিন”(1950), “আর একদিন”(1951)—- এই ত্রয়ী উপন্যাসের ( ট্রিলজি) রচয়িতা কে ? একত্রে কি নামে পরিচিত ? উঃ) গোপাল হালদার । একত্রে ” ত্রিদিবা”- নামে পরিচিত ।
42) ” এষা” (1912) — শোককাব্য টির রচয়িতা কে ? উঃ অক্ষয়কুমার বড়াল ।[ কাব্যটি চার পর্বে বিভক্ত– মৃত্যু,অশৌচ, শোক, সান্ত্বনা । ].
43)”পঁচিশে বৈশাখ”- কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে ? উঃ) সজনীকান্ত দাস ।
44)” রবীন্দ্র সংগমে দ্বীপময় ভারত ও শ্যামাদেশ”— গ্রন্থের রচয়িতা কে ? উঃ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ।

উঃ জয় গোস্বামী ।

উঃমন্মথ রায় ।

উঃ বাদল সরকার । প্রকৃত নাম সুধীন্দ্র সরকার ।

উঃ) উৎপল দত্ত।

 উঃ) মনোজ মিত্র ।

 উঃ) রাজশেখর বসু

১) ব্যাকরণে পুরুষ কাকে বলে*?
ক) বিশেষ্যর বিভিন্ন প্রকৃতিকে
খ) বিশেষ্য ও অব্যয়ের বিভিন্ন প্রকৃতিকে
গ) সর্বনামের বিভিন্ন প্রকৃতিকে
ঘ) বিশেষ্য ও সর্বনামের বিভিন্ন প্রকৃতিকে 
* পুরুষ শব্দটি ব্যাকরণে এক বিশেষ অর্থ বহন করে। ক্রিয়ার কর্তা এবং কর্মের বিশেষ ভাবরূপই হল পুরুষ। ভাষায় ব্যবহৃত যাবতীয় বিশেষ্য পদ কোনাে না কোনাে পুরুষের অন্তর্গত। বিশেষ্য ও সর্বনাম এর বিভিন্ন প্রকৃতিকে ব্যাকরণে পুরুষ বলা হয়ে থাকে।
২) করেছে, করেছো, করেছেন – বাংলা ক্রিয়ার এ তিনটি রূপ কেন ব্যবহৃত হয়?
ক) লিঙ্গভেদের কারণে
খ) মর্যাদাভেদের কারণে 
গ) কারক বিভক্তির কারণে
ঘ) সমাসের কারণে
৩) যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী,বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক সংখ্যার ধারণা হয়,তাকে কি বলে?
ক) সংখ্যা
খ) বচন
গ) একবচন
ঘ) বহুবচন 
বহুবচন : যে সকল শব্দ দ্বারা একের অধিক ব্যক্তি বা বস্তু বোঝায়, তাদেরকে বহুবচন বলে।
যখন কোন শব্দ দ্বারা একাধিক ব্যক্তি, বস্ত্ত বা প্রাণীকে বোঝান হয়, তখন তাকে বহুবচন বলে। যেমন- ছেলেগুলো, কলমগুলি, ইত্যাদি।
কেবল বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বচনভেদ হয়।কখনোই বিশেষণ পদের বচনভেদ হয় না। কিন্তু কোন বিশেষণবাচক শব্দ যদি কোন বাক্যে বিশেষ্য পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা বিশেষ্য পদ হয়,এবং কেবল তখনই তার বচনভেদ হয়।
বাংলায় বহুবচন বোঝানোর জন্য কতগুলো শব্দ বা শব্দাংশ (বিভক্তি) ব্যবহৃত হয়। এগুলোর অধিকাংশই এসেছে সংস্কৃত ভাষা থেকে। অর্থাৎ, বলা যায়, এগুলোর বেশিরভাগই তৎসম শব্দ বা শব্দাংশ। যেমন- রা, এরা, গুলা, গুলি, গুলো, দিগ, দের, সব, সকল, সমুদয়, কুল, বৃন্দ, বর্গ, নিচয়, রাজি, রাশি, পাল, দাম, নিকর, মালা, আবলি।
একালের ব্যাকরণ চর্চার সবচেয়ে সম্মানিত পণ্ডিতদের মধ্যে রয়েছেন নোয়াম চমস্কি। তিনি যখন তাঁর ট্রান্সফরমেটিভ জেনারেটিভ গ্রামার নিয়ে আলোচনা করেন, তখন সেই রূপান্তরমূলক সঞ্জননী ব্যাকরণের বীজ খুঁজতে খুঁজতে পৌঁছে যান প্রাচীন ভারতীয় ব্যাকরণ চিন্তার কাছে। পাণিনির কাছে।
পাণিনিকে নিয়ে গত দুশো বছরের বেশি সময় ধরে ইউরোপ আমেরিকার ভাষাচিন্তার জগতে ধারাবাহিক ও গভীর আলোচনা চলছে। লেখা হয়েছে অনেক গ্রন্থ ও অসংখ্য প্রবন্ধ। শুধু পাণিনি বা তাঁর বিখ্যাত অষ্টাধ্যায়ীই নয়, আলোচিত হয়েছেন মহাভাষ্যকার পতঞ্জলি বা কাত্যায়নের মতো ব্যাকরণবিদেরাও।
এই ঐতিহ্য শুধু অতীতে সীমাবদ্ধ নয়, বর্তমান তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ভাষাচর্চার সঙ্গেও গভীরভাবে সমন্বিত।
 
২. বৈদিক ব্যাকরণ
পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী সহ বিভিন্ন গ্রন্থে আমরা পাণিনি পূর্ববর্তী বেশ কয়েকজন ব্যাকরণবিদের উল্লেখ পাই। তবে তাদের রচনাবলী সেভাবে আমাদের কাছে এসে পৌঁছয় নি। এনাদের মধ্যে আছেন ভাগুরি, কমন্দ, শাকটায়ন, সেনক, গালব, গার্গ্য, আপিশলি, কাশ্যপ, স্ফোটায়ন, বাজপ্যায়ন, কাশকৃৎস্ন প্রমুখ। এঁদের উত্তরাধিকার রয়েছে পাণিনি, কাত্যায়ন, পতঞ্জলির ভাষাচিন্তায়। তবে পতঞ্জলির পরে দীর্ঘদিন কোনও মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গীর প্রবর্তনা দেখা যায় না। পরবর্তী ব্যাকরণ চর্চাকারীরা মূলত পাণিনি বা পতঞ্জলির রচনারই টীকাভাষ্য লিখেছেন। ভাষার পরিবর্তনশীল চরিত্র সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসার পরিবর্তে ক্রমশ নৈয়ায়িক কূটতর্ক ও দার্শনিক তত্ত্বজিজ্ঞাসা প্রাধান্য পেয়েছে। এই প্রসঙ্গে খ্রীষ্টীয় সপ্তম শতকে রচিত ভর্তৃহরির বাক্যপদীয় গ্রন্থটির কথা ভাবা যায়। দার্শনিক তত্ত্বজিজ্ঞাসার আধিক্য এই ব্যাকরণচর্চায় স্পষ্ট। ন্যায়, বৈশেষিক ও মীমাংসা দর্শনের গ্রন্থরাজিতেও ভাষা সম্পর্কে যে আলোচনা রয়েছে, সেখানে নৈয়ায়িক সূক্ষ্মতা থাকলেও ভাষার প্রবাহ সম্পর্কে বিচার বিশ্লেষণ কম।
৩. পাণিনি ও তাঁর অষ্টাধ্যায়ী –
পাণিনির অষ্টাধ্যায়ীকে শুধু প্রাচীন ভারতীয় ভাষাচিন্তার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন নয়, মানব মণীষারই অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফসল বলে অনেকে মনে করেছেন। সেকালের ব্যাকরণচিন্তায় পাণিনি অনন্য তো বটেই, একালের শ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ চমস্কিও তাঁর সবচেয়ে মৌলিক ভাষা তত্ত্ব “ ট্রান্সফরমেটিভ জেনারেটিভ গ্রামার” এর বীজ খুঁজে পেয়েছেন পাণিনির ব্যাকরণ চিন্তার মধ্যে।
পাণিনির আবির্ভাবকাল নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক আছে। ভাণ্ডারকরের মতে পাণিনি খ্রীষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর মানুষ, সুনীতিকুমার মনে করেছেন খ্রীষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীর। ম্যাক্সমুলারের মতে খ্রীষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকের মাঝামাঝি সময়ের। তাঁর আবির্ভাবকালের মতো স্থান বা ব্যক্তি পরিচয় সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। পরবর্তীকালের সাহিত্যে তাঁকে শালাতুরীয় বলা হয়েছে বলে মনে করা হয় পাণিনি তক্ষশীলার শালাতুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন। কেউ কেউ শালাতুরকে লাহোরের কাছে অবস্থিত বলে মনে করেছেন, কেউ বা পাকিস্থানের উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে।
পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী মোট আটটি অধ্যায়ে বিভক্ত, সে কারণেই গ্রন্থটির এরকম নামকরণ। প্রথম অধ্যায়ে রয়েছে কিছু সংজ্ঞা এবং পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে প্রদত্ত সূত্রগুলি ব্যাখ্যার নিয়মকানুন। দ্বিতীয় অধ্যায়ে পাণিনি আলোচনা করেছেন সমাস ও কারক বিভক্তি নিয়ে। তৃতীয় অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে কৃৎ প্রত্যয়। চতুর্থ ও পঞ্চম অধ্যায়ে তদ্ধিত প্রত্যয়। ষষ্ঠ ও সপ্তম অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে স্বরাঘাত ও ধ্বনিপরিবর্তন সহ ধ্বনিতত্ত্বের বিভিন্ন দিক। অষ্টম অধ্যায়ের প্রথম অংশে আছে স্বরাঘাতবিধি ও সন্ধির নিয়ম। অষ্টম অধ্যায়ের পরবর্তী তিন চতুর্থাংশ জুড়ে রয়েছে ব্যাকরণের বিভিন্ন প্রসঙ্গ এবং সেই প্রসঙ্গে পূর্বসূরী বৈয়াকরণদের বিভিন্ন মত নিয়েও তিনি আলোচনা করেছেন।
পাণিনির অষ্টাধ্যায়ীর যে চেহারাটি এখন আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে তাতে মোট চার হাজার সূত্র আছে। এই চার হাজার সূত্রের মধ্যে আড়াই হাজার সূত্র পাণিনির ও বাকি দেড় হাজার হল কাত্যায়নের বার্তিক সূত্র। পাণিনির ব্যাকরণে সাত রকমের সূত্র আছে। ১) সংজ্ঞা ২) পরিভাষা ৩) বিধি ৪) নিয়ম ৫) অধিকার ৬) অতিদেশ ৭) অপবাদ। সূত্রগুলি অত্যন্ত সংক্ষেপে বলা এবং টীকা ভাষ্যর সাহায্য ছাড়া একালে তা বুঝে ওঠা সম্ভব নয়।
 
৪. কাত্যায়নের ব্যাকরণ –
পাণিনির প্রায় দুই শতাব্দী পরের খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের ব্যাকরণবিদ ছিলেন কাত্যায়ন। সেই সময় ভাষার প্রবাহ আরো বদলে গিয়েছিল এবং সেইজন্য কাত্যায়ন পাণিনির বেশ কিছু সূত্রকে সংশোধন করার প্রয়োজন মনে করেছিলেন বলে অনেকে মনে করেন। কাত্যায়নের রচনার নাম বার্তিক। পাণিনির দেড় হাজার সূত্রকে তিনি সংশোধন করেছিলেন। বার্তিক ছাড়াও কাত্যায়ন এর নাম পাওয়া যায় বাজসনেয়ি প্রাতিশাখ্যর রচনাকার হিসেবে। এখানে শুক্ল যজুর্বেদের ভাষার ধ্বনি, বানান ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। অনেকে মনে করেছেন কাত্যায়ন ছিলেন পাণিনি বিরোধী ব্যাকরণ ধারা ঐন্দ্র সম্প্রদায়ের মানুষ। স্থানগত দিক থেকেও ছিল ভিন্নতা। তিনি সম্ভবত ছিলেন দক্ষিণ ভারতের মানুষ।
 
৫. পতঞ্জলির মহাভাষ্য
কাত্যায়নের প্রায় এক শতাব্দী পরে সংস্কৃত ব্যাকরণের আর এক বিশিষ্ট লেখক পতঞ্জলির আবির্ভাব হয় খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে। পতঞ্জলির মহাভাষ্য কোনও মৌলিক রচনা নয়, পাণিনির ব্যাকরণের এক অসামান্য ভাষ্য। পাণিনির অনেক সূত্রকে কাত্যায়ন খণ্ডন করেছিলেন। পতঞ্জলি কাত্যায়নের সূত্রগুলিকে খণ্ডন করে আবার পাণিনির সূত্রগুলিকেই পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন। পাণিনির ব্যাকরণের মতোই পতঞ্জলির মহাভাষ্যও আটটি অধ্যায়ে বিভক্ত। পতঞ্জলির ব্যাকরণ রচনা শুধু বিশ্লেষণের দিক থেকে বিশিষ্ট নয়, রচনারীতির দিক থেকে সরস ও প্রাঞ্জল বলে বিশেষ জনপ্রিয় হয়েছিল।
 
৬. সম্প্রদায় ভিত্তিক ব্যাকরণচর্চা –
পাণিনি, কাত্যায়ন, পতঞ্জলির বৈদিক ধারার বাইরে বৌদ্ধ, জৈন ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাষাচিন্তা ও ব্যাকরণচর্চার ভিন্ন একটি ধারা বিকশিত হয়েছিল। খ্রীষ্টীয় পঞ্চম শতকে বৌদ্ধ চন্দ্রগোমী, জৈন জিনেন্দ্রর রচনা, সপ্তম শতকে কাতন্ত্র সম্প্রদায়ের সর্ববর্মার রচনা, নবম শতকে জৈন শাকটায়নের লেখা, একাদশ শতকে জৈন হেমচন্দ্রের রচনা, ত্রয়োদশ শতকে ব্যোপদেবের মুগ্ধবোধ এবং অনুভূতি স্বরূপাচার্যের রচনা, চতুর্দশ শতকে লেখা পদ্মনাভের রচনা এই জাতীয় ব্যাকরণচর্চার দৃষ্টান্ত। পঞ্চদশ শতকে রূপ গোস্বামী ও জীব গোস্বামী বৈষ্ণব ধর্মান্দোলনের সঙ্গে সংযুক্ত করে হরিনামামৃত ব্যাকরণ রচনা করেন।
 
৭. পালি ব্যাকরণ –
পাণিনির সময় থেকে যখন সংস্কৃত ব্যাকরণগুলি রচিত হচ্ছে, তখন তার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ভাষার বিকৃতিকে আটকানো। আমরা এখন যেভাবে ভাষার পরিবর্তনের স্বাভাবিকতাকে স্বীকার করে তার বৈশিষ্ট্যকে ভাষাচর্চায় স্বীকৃতি দিই, তখন বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখা হত। কিন্তু ভাষা তার স্বাভাবিক নিয়মেই বদলেছে এবং বৈদিক সংস্কৃতের উত্তরাধিকারী হিসেবে ব্যাকরণবিদ অনুশাসিত ক্লাসিক্যাল সংস্কৃত জন্ম নিলেও জনগণের মুখের ভাষায় পালি ও প্রাকৃতের অবিরাম প্রবাহ ছিল। পালি বৌদ্ধধর্মের সূত্রে ভারতে ও ভারতের বাইরে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং অনেকগুলি পালি ব্যাকরণ রচিত হয়। ওয়াস্কারে সুব্বুতি তাঁর নামমালার ভূমিকায় ৪৫ টি পালি ব্যাকরণের নাম ও পরিচয় উল্লেখ করেছেন। এগুলির মধ্যে বেশি বিখ্যাত ছিল কচ্চায়ন, মোগ্‌গল্লান ও সদ্দনীতির রচিত তিনটি ব্যাকরণ। বিধুশেখর শাস্ত্রী মহাশয়ের পালিপ্রকাশ গ্রন্থে পালি ব্যাকরণ সম্পর্কে মূল্যবান আলোচনা আছে। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, “পালি ব্যাকরণসমূহ সমস্তই সংস্কৃতের আদর্শে রচিত। কচ্চায়ন ব্যাকরণের অনেক সূত্র কাতন্ত্র ব্যাকরণের সহিত অক্ষরানুপূর্বীতে একরূপ। আবার পাণিনি হইতে অনেক সূত্র গৃহীত হইয়াছে বলিয়াও বোধ হয়। কেহ বলিয়াছেন যে, কচ্চায়ন ও কাতন্ত্র উভয়েই ঐন্দ্র ব্যাকরণ হইতে সূত্র গ্রহণ করিয়াছেন। মোগ্‌গল্লান ব্যাকরণ ও চান্দ্র ব্যাকরণের সূত্র হুবহু একই, মোগ্‌গল্লানে কেবল পালির নিয়ম অনুসারে শব্দাদির যাহা পরিবর্তন সম্ভব, তদ্‌ভিন্ন ঐ সকল সূত্র আর কোনও ভেদ নাই।” (পালিপ্রকাশ, প্রবেশক, পৃষ্ঠা ৮৩ -৮৪)। পালি ব্যাকরণে সংস্কৃত ব্যাকরণের অনুবর্তন থাকলেও সংস্কৃত ব্যাকরণ ক্রমশ যেমন তত্ত্বজিজ্ঞাসা ও দার্শনিক প্রশ্নে জটিল হয়ে পড়েছে, পালি ব্যাকরণ সেই পথে এগয় নি। সেখানে ভাষাশিক্ষার সহজতম পন্থা নির্ধারণের চেষ্টা দেখা যায়।
 
৮. প্রাকৃত ব্যাকরণ –
সংস্কৃত ও পালি ব্যাকরণ ছাড়াও প্রাকৃত ব্যাকরণগুলি প্রাচীন ভারতীয় ভাষাচিন্তার আরেকটি বিশিষ্ট ধারা। প্রাকৃত ব্যাকরণ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য এই দুই আঞ্চলিক ভাষাগত বিভাজনের ওপর ভিত্তি করে দুটি আলাদা ধারায় রচিত হয়েছে। বররুচির ‘প্রাকৃত প্রকাশ’ প্রাচ্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রচনা। পাশ্চাত্য ধারার প্রাকৃত ব্যাকরণের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বাল্মীকির প্রাকৃতসূত্র। প্রাচ্য প্রাকৃত শাখার অন্যান্য বিখ্যাত ব্যাকরণ গ্রন্থের মধ্যে আছে বসন্তরাজের প্রাকৃত সঞ্জীবনী, রামশর্মা তর্কবাগীশের প্রাকৃত কল্পতরু, লঙ্কেশরের প্রাকৃত কামধেনু, রাবণের প্রাকৃত লঙ্কেশ্বর, পুরুষোত্তমের প্রাকৃতানুশাসন, ক্রমদীশ্বরের সংক্ষিপ্তসার প্রাকৃত ব্যাকরণ, মার্কন্ডেয় কবীন্দ্রের প্রাকৃত সর্বস্ব। পাশ্চাত্য প্রাকৃত শাখার বিখ্যাত গ্রন্থগুলির মধ্যে বাল্মীকির প্রাকৃত সূত্রের টীকাভাষ্য হিসেবে লেখা হয়েছিল ত্রিবিক্রমের প্রাকৃত ব্যাকরণ, লক্ষীধরের ষড়ভাষাচন্দ্রিকা, সিংহরাজের প্রাকৃত রূপাবতার, অপ্‌পয়দীক্ষিতর প্রাকৃত মণিদীপ, হেমচন্দ্রের সিদ্ধহৈমশব্দানুশাসন।
 
৯. তামিল ব্যাকরণ –
আর্যভাষা সমূহের এই সব ব্যাকরণের বাইরে দ্রাবিড় ভাষাবংশের তামিল ভাষার ব্যাকরণও বেশ প্রাচীনকালেই রচিত হয়েছিল। প্রাচীনতম তামিল ব্যাকরণের নাম তোল্‌কাপ্পিয়ম। এটি খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় বা দ্বিতীয় শতকে রচিত হয়েছিল। মূলত ব্যাকরণগ্রন্থ হলেও এতে প্রচুর তামিল কবিতার নিদর্শনও রয়েছে। তোল্‌কাপ্পিয়ম গ্রন্থটি তিনটি বর্গে বিভক্ত, প্রতিটি বর্গে রয়েছে নয়টি করে অধ্যায় এবং প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে অনেকগুলি সূত্র। বইটিতে সর্বমোট ১৬০০ সূত্র আছে। তোল্‌কাপ্পিয়মের প্রথম বর্গটির নাম এলুত্তিতিকারম্‌। এখানে ধ্বনিতত্ত্ব বিষয়ক ৪৮০ টি সূত্র রয়েছে। ধ্বনি, তাদের সংখ্যা, বিভাজন, উচ্চারণ, ধ্বনির উৎপত্তি ও সন্ধি নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয়েছে। বইটির দ্বিতীয় বর্গের নাম চোল্লতিকারম্‌। ৪৬০ টি সূত্রে এখানে আলোচিত হয়েছে বাক্যরীতি ও রূপতত্ত্ব। ১, ২, ৩, ৪ নং অধ্যায়ে রয়েছে বাক্যরীতির আলোচনা। ৫ থেকে ৯ নম্বর অধ্যায়ে রয়েছে রূপতত্ত্ব, শব্দগঠন সম্পর্কিত আলোচনা। বইটির তৃতীয় বর্গটির নাম পোরুলতিকারম্‌। এখানে কাব্যশাস্ত্র বিষয়ক আলোচনা রয়েছে। কাব্যশাস্ত্রর শ্রেণিভেদ, অলঙ্কার, ছন্দ, রস প্রভৃতি আলোচিত হয়েছে ৬৬০ টি সূত্রে।
তোল্‌কাপ্পিয়মে তামিল ভাষার শব্দাবলীকে মোট চারভাগে ভাগ করা হয়েছে। ১) ইয়ারচোল – খাঁটি তামিল শব্দ ২) তিরিচোল – এগুলিও খাঁটি তামিল শব্দ। কিন্তু তামিল কবিতায় ব্যবহৃত হবার ফলে এ সব শব্দে কিছু পরিবর্তন ঘটেছে। ৩) তিচৈচ্চোল – প্রান্তীয় অঞ্চল থেকে আহৃত শব্দ। এগুলি মূলত তেলুগু, কন্নড় ভাষার শব্দ। ৪) বটচোল – সংস্কৃত থেকে গৃহীত শব্দ। সংস্কৃত শব্দসমূহ তামিলে চারভাগে গৃহীত হয়েছে। ক) তৎসম – সংস্কৃত বানান বজায় রেখে খ) অর্ধতৎসম – কৃষ্ণ > কিরুষ্‌ণন্‌ গ) তদ্ভব – কৃষ্ণ > কন্নন্‌ ঘ) তামিলের ধ্বনি পরিবর্তনের সূত্র অনুযায়ী। ব্রাহ্মণ > পিরাম্মন্‌ (তামিল) > বরামন্‌ (তেলুগু)।
পি এস সুব্রহ্মণ্য শাস্ত্রী মনে করেছেন তোল্‌কাপ্পিয়ম্‌ ব্যাকরণে প্রাতিশাখ্য, যাস্কের নিরুক্ত, পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী ও বিভিন্ন শিক্ষা গ্রন্থের প্রভাব পড়েছে। তিনি তাঁর হিস্ট্রি অব গ্রামাটিকাল থিওরিজ ইন তামিল (১৯৩৪) বইতে আরও অনেক তামিল বৈয়াকরণের নাম উল্লেখ করেছেন। যেমন তোল্‌কাপ্পিয়মের টীকাকার ইলম্‌পূরণর্‌ (খ্রীষ্টীয় দশম শতাব্দী), বীরচোলিয়ম্‌ এর রচনাকার পুত্তমিত্তিরণার্‌ (একাদশ শতাব্দী), নেমিনাতম্‌ রচয়িতা কুণবীরপণ্ডিতর্‌ (ত্রয়োদশ শতাব্দী), নন্নূল রচয়িতা পবণন্তি (ত্রয়োদশ শতাব্দী), পিরযোকবিবেকম্‌ রচয়িতা চুপ্পিরমনীয় তিট্‌চিতর্‌ (সপ্তদশ শতাব্দী) ইত্যাদি।
চৈতন্যদেবের আগে-পরে রচিত সহস্রাধিক বৈষ্ণব পদের লেখনীতে চণ্ডীদাসের নাম পাওয়া যায়। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন নামে যে পুঁথিটি প্রকাশিত হয়, তাতে বড়ু চণ্ডীদাসের নাম পাওয়া যায়। যাঁর কাব্যের রচনাকাল ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ বলে ধরা যায়। মালাধর বসু ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দের দিকে সংস্কৃত শ্রীমদ্ভাগবত অবলম্বনে পয়ার ছন্দে কৃষ্ণলীলা বিষয়ক উপাখ্যান শ্রীকৃষ্ণবিজয় রচনা করেন। এই কাব্যের জন্য গৌড়েশ্বর তাঁকে ‘গুণরাজ খাঁ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। এটি ‘মঙ্গল’ বা ‘বিজয়’ জাতীয় পাঁচালি বা আখ্যানকাব্য হিসেবে পরিচিত; যার অন্য নাম গোবিন্দমঙ্গল বা গোবিন্দবিজয়।
আদি-মধ্যযুগেই রামায়ণ, মহাভারত, ভাগবত প্রভৃতি অনুবাদকাব্যের রচনা শুরু হয়। এ সময়ে মুসলমান শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সুলতান আলাউদ্দীন হুসেন শাহ, তাঁর পুত্র নসরৎ শাহ (১৫১৯-৩২) এবং সেনাপতি পরাগল খাঁর উৎসাহ ও অবদান এই সময় বাংলা সাহিত্যের বিকাশে বিশেষভাবে স্মরণীয়। ব্রজবুলি ভাষায় বাঙালিদের পদ-রচনা এসময়ে শুরু হয়। কবি কঙ্ক সত্যপীরের মহিমা প্রচারের উদ্দেশ্যে বাংলায় সর্বপ্রথম বিদ্যাসুন্দর কাহিনী রচনা করেন (আনু. ১৫০২)। চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) আবির্ভাব এসময় পরিলক্ষিত হয়। তার রচনায় ও প্রচারে বাংলা সাহিত্যের নতুন দিক উন্মোচিত হয় এবং বৈষ্ণব সাহিত্যেরও ভিত্তি স্থাপিত হয়।
বাংলা সাহিত্য ধারার মধ্য-মধ্যযুগে চৈতন্যদেব বঙ্গদেশে এক নবভক্তি-ধারার প্রবর্তন করেন, যা ভাবচৈতন্যের ক্ষেত্রে রেনেসাঁর সূচনা করে। তাঁর প্রচেষ্টায় বাংলায় একটি শক্তিশালী সাহিত্যিক গোষ্ঠী এবং সাহিত্যধারার সৃষ্টি হয়। এ যুগেই বাংলায় জীবনচরিত লেখার প্রচলন এবং চৈতন্যদেবের জীবনকে কেন্দ্র করে জীবনীগ্রন্থগুলো রচিত হয়। এই সময়ের কয়েকটি গ্রন্থের মধ্যে বৃন্দাবনদাসের চৈতন্যভাগবত (১৫৭৩), জয়ানন্দের চৈতন্যমঙ্গল (১৬শ শতকের শেষভাগ), লোচনদাসের (১৫২৩-১৫৮৯) চৈতন্যমঙ্গল এবং কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃত (১৬১৫) উল্লেখযোগ্য। আরো কিছু চৈতন্য-সংশ্লিষ্ট জীবনীকাব্য হচ্ছে নরহরি চক্রবর্তীর ভক্তিরতœাকর (চৈতন্যদেবের পার্ষদ-ভক্তদের জীবনী), নিত্যানন্দ দাসের প্রেমবিলাস (শ্রীনিবাস, নরোত্তম ও শ্যামানন্দের জীবনী এবং তাঁদের ধর্মমত প্রচারের কথা) ও ঈশান নাগরের অদ্বৈতপ্রকাশ (১৫৬৮-৬৯)। এগুলোর মধ্য হতে চৈতন্যচরিতামৃতকে চৈতন্যদেবের সর্বশ্রেষ্ঠ জীবনীগ্রন্থ মনে করা হয়।
পদাবলি এ সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যধারা। চৈতন্য পূর্বযুগেই এর শুরু। রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক এ সাহিত্য ভাব, ভাষা ও ছন্দে অতুলনীয়। এই রচনা ধারায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আত্মার আত্মীয়রূপে কল্পিত; তাঁর ও ভক্তের মধ্যে কোনো দূরত্ব নেই। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এবং চৈতন্যদেবের প্রেমসাধনাকে অবলম্বন করে পরবর্তীতে মধ্যযুগের পদাবলি বা গীতিকাব্যের ধারা বিস্তার লাভ করে। চৈতন্যদেবের পরবর্তী এই পদাবলি রচনার মধ্য দিয়েই বৈষ্ণব কবিদের দ্বারা পদাবলি সাহিত্য পরিপুষ্ট হয়। মুসলমানসহ অগণিত কবি রাধাকৃষ্ণলীলার পদ রচনা করে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন। এদের মধ্যে চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস, লোচনদাস, গোবিন্দদাস, কবিবল্লভ রায়শেখর, বলরাম দাস, নরোত্তম দাস, নরহরি দাস, রাধামোহন ঠাকুর উল্লেখযোগ্য। চৈতন্যপূর্ব কবি বিদ্যাপতি কর্তৃক মৈথিল ভাষায় রচিত পদগুলো পদাবলি সাহিত্যের মূল্যবান সম্পদ। চণ্ডীদাস ও বিদ্যাপতি পদাবলি সাহিত্যের দুই সেরা কবি।
অনুবাদ সাহিত্যে প্রথমেই কৃত্তিবাস ওঝা রচয়িত রামায়ণ উল্লেখযোগ্য। বড়ু চণ্ডীদাসের পরে তিনিই বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কবি। তাঁর রচিত রামায়ণ বাংলা ভাষায় প্রথম ও সর্বাধিক জনপ্রিয় কাব্য। বর্ণনার হৃদয়গ্রাহিতা এবং ভাষার প্রাঞ্জলতাই এই জনপ্রিয়তার কারণ। কৃত্তিবাস ১৫শ শতকের গোড়ার দিকে জীবিত ছিলেন। তাঁর কাব্যের মধ্যে মধ্যযুগের বাঙালি-জীবন প্রত্যক্ষ হয়ে উঠেছে। ১৮০২-৩ খ্রিস্টাব্দে শ্রীরামপুর মিশন থেকে গ্রন্থটি মুদ্রিত হয়। কৃত্তিবাসের পরে আরও অনেকে রামায়ণ রচনা করেছেন। সতেরো শতকে ময়মনসিংহের মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা চন্দ্রাবতীর রামায়ণগাথা সে অঞ্চলে প্রচলিত ছিল। উত্তরবঙ্গের অদ্ভুত আচার্য রামায়ণ গায়ক হিসেবে খ্যাত ছিলেন। নোয়াখালীর দ্বিজ ভবানী দাসের শ্রীরামপাঁচালি কাব্য অধ্যাত্ম্যরামায়ণ অবলম্বনে রচিত। মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদ হচ্ছে কবীন্দ্র মহাভারত। ১৫১৫-১৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কবীন্দ্র পরমেশ্বর এটি রচনা করেন। লস্কর পরাগল খাঁর নির্দেশে রচিত বলে এটি পরাগলী মহাভারত নামেও পরিচিত।
মঙ্গলকাব্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন মনসামঙ্গল, তন্মধ্যে বিজয়গুপ্তের পদ্মপুরাণ (১৪৯৪) সর্বাধিক জনপ্রিয়। মনসামঙ্গল এক সময় পূর্ববঙ্গের জাতীয় কাব্যের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিল। মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারা উৎকর্ষের জন্য বিখ্যাত। মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (১৬শ শতক) রচিত চণ্ডীমঙ্গল সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত। এর জন্য রাজা রঘুনাথ রায় তাঁকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। অন্যান্য মঙ্গলকাব্য হচ্ছে ধর্মমঙ্গল, শিবমঙ্গল ইত্যাদি এবং এগুলোর প্রধান রচয়িতারা ছিলেন ১৮শ শতকের। ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূরভট্ট; তাঁর পরবর্তী প্রসিদ্ধ কবি ছিলেন খেলারাম চক্রবর্তী, যাঁর কাব্যের নাম গৌড়কাব্য।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম- শতবার্ষিকী পালিত হয় ? = ১৯৬১ সালে ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন ? = ১৮৮০ সালে ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম কি ? = বৌঠাকুরানির হাট ।
• ভানুসিংহ কার ছদ্মনাম ? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• শেষের কবিতা কি ধরনের গ্রন্থ ?= উপন্যাস ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন কবে ? = ১৯১৩ খ্রিঃ।
• সাহিত্যে নোবেল পুরুস্কার পান প্রথম কোন ভারতীয়? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
• এশিয়ার প্রথম নোবেল পুরস্কার বিজয়ী কে ? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন কাব্য গ্রন্থটির জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ? = গীতাঞ্জলি।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি-এর ইংরেজি অনুবাদ কে করেন ? = W.B.Yeats.
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাইট উপাধি ত্যাগ করেন = ১৯১৯ সালে।
• বাংলায় টি এস এলিয়েটের কবিতার প্রথম অনুবাদক = বিষ্ণু দে
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার রচিত কোন নাটকটি কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেছিলেন ? = বসন্ত ।
• রবীন্দ্রনাথ যে রচনাটির জন্য সবাধিক বিখ্যত সেটি কোনটি ? = গীতাঞ্জলি ।
• কোন উপন্যাসটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কতৃক রচিত নয় ? = কৃষ্ণ কান্তের উইল ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নয় ? = দোলন-চাঁপা ।
• নিচের কোনটি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা ? = চতুরঙ্গ
• চতুরঙ্গ গ্রন্থটি একটি = উপন্যাস ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রন্থ নয় = সঞ্চিতা ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত নয় = বীরাঙ্গনা ।
• সঞ্চয়িতা কোন কবির কাব্য সংকলন ? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• খেয়া রবীন্দ্রনাথের একটি = কাব্যগ্রন্থ ।
• কোনটি নাটক ? = ডাকঘর ।
• চিত্রা রবীন্দ্রনাথের একটি = কাব্যগ্রন্থ ।
• রবীন্দ্রনাথের কোন গ্রন্থটি নাটক ? = রক্তকরবী ।
• রবীন্দ্রনাথের সাংকেতিক নাটক হল = ডাকঘর ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত গদ্যগ্রন্থ কোনটি ? = য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন পত্রিকাটিতে আভিনন্দন বাণী দিয়েছিলেন? = ধূমকেতু ।
• নিচের কোন গল্পটি রবীন্দ্রনাথের লিখা ?= ক্ষুধিত পাষাণ ।
• রবীন্দ্রনাথের নিঝরের স্বপ্নভঙ্গ কবিতায় কবির উপলদ্ধি কি ? =ভবিষ্যত বিচিত্র ও বিপুল সম্ভাবনাময় ।
• দেনা পাওনা উপন্যাস ও দেনা পাওনা ছোট গল্পের লেখক যথাক্রমে = শরৎচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• রক্তকরবী ও রক্তাক্ত প্রান্তর লিখেছেন যথাক্রমে = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মুনির চৌধুরী ।
• বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন বিশ্ববিজ্ঞানী-এর সাথে দর্শন , মানুষ ও বিজ্ঞান নিয়ে আলাপচারিতা করেছিলেন । = আইনস্টাইল ।
• নন্দিনী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন লেখার প্রধান চরিত্র ? = রক্ত করবী ।
• রবীন্দ্রনাথের চোখের বালি উপন্যাসের প্রধান দুটি চরিত্রের নাম কি কি? = মহেন্দ্র ও বিনোদিনী ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিচের কোন তিনটি গল্পে মুসলমান চরিত্র রয়েছে ? = ক্ষুধিত পাষাণ , মুকুট ও সুভা।
• বাংলাদেশের জাতীয় কবি ও জাতীয় সঙ্গীত রচয়িতা কে ? = যথাক্রমে কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মৃত্যুবরণ করেন কবে ?= ১৯৪১ সালে ।
• রবীন্দ্রনাথের রক্তকরবী কোন শ্রেণীর নাটক ? = সাংকেতিক ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার পুরবী কাব্য কাকে উৎসর্গ করেছিলেন ? = ভিক্টোরিয়া ও কামপো ।
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোট গল্পকার কে ? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• যৌতুক প্রথা প্রাধান্য পেয়েছে কোন গল্পে ? = হৈমন্তী ।
• বিশ্ব ভারতী কে প্রতিষ্ঠা করেন ? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থ কোনটি ? = বনফুল।
• পদাবলী লিখেছেন = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী এর রচয়িতা কে ? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• মৃন্ময়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্পের নায়িকা ?= সমাপ্তি ।
• চতুরঙ্গ উপন্যাসটি কার রচনা ? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• কোন উপন্যাসটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ? = ঘরে – বাইরে ।
• ঘরে বাইরে উপন্যাসের মূল উপজীব্য হলো কি =ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতি ।
• গল্পগুচ্ছ কার লেখা ? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• কোনটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত কবিতার নাম? = জীবনের জলছবি ।
• রবীন্দ্রনাথের কাব্য গ্রন্থ কোনটি ? =বীরাঙ্গনা ।
• শেষের কবিতা উপন্যাসের নায়ক কে ? = অমিত রায় ।
• রবীন্দ্রনাথ রচিত নাটক কোনটি ? = চণ্ডালিকা ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্য তার কত বছর বয়সে প্রকাশিত হয়? = ১৩ বছর বয়সে ।
• কত বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বনফুল প্রকাশিত হয় ? = পনের।
• রবীন্দ্রনাথ শান্তি নিকেতন প্রতিষ্ঠা করেন = ১৯০১ সালে ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানবজীবনের সাথে কোনটির তুলনা করেছেন ? = নদী ।
• কোন বইটি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নয় ? = কৃষ্ণ কুমারি ।
• সোনার তরী কব্য কার রচনা ? = রবীন্দ্রনাথের ।
• বিসর্জন কার রচনা ? = রবীন্দ্রনাথের ।
• বিসর্জন কাব্যনাট্যে কোন নদীর উল্লেখ আছে ? = নাই ।
• কোনটি নাটক ? =ডাকঘর ।
• কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কব্য গ্রন্থ নয় ? = অগ্নিবীণা ।
• সবুজের অভিযান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্য গ্রন্থ থেকে সংকলিত ? = বলাকা ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা = চার অধ্যায় ।
• কোন আধুনিক কবি ব্রজবুলি ভাষায় কাব্য রচনা করেন ? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• সোনার তরী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি = কাব্য গ্রন্থ ।
• কোন গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নয় ? = রাজবন্দীর জবানবন্দী।
• শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোট খাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের সংলাপ ? = সমাপ্তি ।
• সেদিন উতলা প্রনে , হৃদয় মগন গানে ,কবি এক জাগে , কত কথা পুস্প প্রায়, বিকশি তুলিতে চায় কত অনুরাগে – কোন কবিতার চরণ? = সমাপ্তি ।
• সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা’ রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যের কবিতা ? = বলাকা ।
• মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে এই চরণটি কার লিখা ? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• সম্মুখে শান্তি পারাবার ভাসাও তরী হে করণধার তুমি হবে চির সাথী লও লও হে ক্রোড়পতি অসিমের পথে জ্যোতি ধ্রুবতারার’’ উদ্ধতাংশটুকুর রচয়িতা কে ? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• সমগ্র শরীরকে বঞ্চিত করে কেবল মুখে রক্ত জমলে তাকে স্বাস্থ্য বলা যায় না বলেছেন = রবীন্দ্রনাথ ।
• ‘ এ জগতে হায় ;সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি । উপযুক্ত চরণদ্বয় রবীন্দ্রনাথের কোন কবিতার অংশ ? = দুই বিঘা জমি ।
• যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায় ভাল –মন্দ মিলায়ে সকলি এবার পুজোয় তারি আপনাবে দিতে চাই বলি । চরণটির রচয়িতা = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• একবার নিতান্ত ইচ্ছা হইল, ‘ফিরিয়া যাই, জগতের ক্রোড়বিচ্যুত সেই অনাথিনীকে সঙ্গে করিয়া লইয়া আসি’— কিন্তু তখন পালে বাতাস পাইয়াছে, বর্ষার স্রোত খরতর বেগে বহিতেছে, গ্রাম অতিক্রম করিয়া নদীকূলের শ্মশান দেখা দিয়াছে— এবং নদীপ্রবাহে ভাসমান পথিকের উদাস হৃদয়ে এই তত্ত্বের উদয় হইল, জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী। পৃথিবীতে কে কাহার। কার লেখা ? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• ‘ মানুষ যা চায় ভুল করে চায় যা পায় তা চায় না ‘ – কার কথা ? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• কাদম্বিনী মরিয়াই প্রমাণ করিল সে মরে নাই – উক্তিটি কোন গল্প লেখকের ? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• যেখানে ফ্রি থিংকিং নেই সেখানে কালচার নেই – উক্তিটি কোন লেখকের লেখা প্রবন্ধে পাওয়া যায় ? = রবীন্দ্রনাথ ।
• ‘ছোট প্রাণ; ছোট ব্যথা; ছোট ছোট দুঃখ –এ কার মন্তব্য? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• ‘ মামা আমার ছুটি হয়েছে কি ? ছুটি গল্পে ফটিকের এই উক্তি দ্বারা তার মনের কোন ভাবের অভিব্যক্তি ঘটেছে ? = ছুটি হলে সে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যেতে পারবে ।
• আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে ‘এ পংন্তির রচয়িতা কে ? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• ‘ কিন্তু মঙ্গল আলোকে আমার শুভ উৎসব উজ্জ্বল হইয়া উঠিল – উদ্ধৃতাংশটুকু রবি ঠাকুরের কোন গল্প থেকে নেয়া হয়েছে ? = কাবুলিওয়ালা ।
• ‘ গ্রহণ করেছ যত ; ঋণী করেছ তত আমায় ‘। উদ্ধৃত বাক্যটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘শেষের কবিতা ‘ উপন্যাসের কোন চরিত্রের বক্তব্য ? = অমিত রায় ।
• ‘ কাদম্বিণী মরিয়াই প্রমান করল ; সে মরে নাই ‘ এ অংশুটুকু গল্প থেকে নেয়া হয়েছে ? = জীবিত ও মৃত
• ‘ আমি যে দেখেছি গোপন হিংসা কপট রাত্রি ছায়ে’উদ্ধতাংশটি কোন কবির কোন কবিতার অংশ ? । = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• ‘এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রান; মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান’’ । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো লিখেছিলেন? = চিত্তরঞ্জন দাস ।
• তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি ‘’রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যের কবিতা ? = শেষ লেখা ।
• হায়রে ;তাহার বউমার প্রতি বাবার সেই মধুমাখা পঞ্চম স্বর একেবারে এমন বাজখাই খাদে নামিল কেমন করিয়া ?উদ্ধৃতাংশটুকুর প্রবন্ধকার কে ? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• ‘নমো নমোঃ নমোঃ সুন্দরী মম জননী ‘’বঙ্গভুমি ‘উদ্ধৃতাংশের লেখক = রবীন্দ্রনাথ ।
• ‘ এ যে দুর্লভ ;এ যে মানবী ;ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে ‘’- এই উক্তিটি কার ?= রবীন্দ্রনাথ ।
• ‘ একখানি ছোট ক্ষেত ;আমি একেলা ‘ রবীন্দ্রনাথের কোন কবিতার চরণ ? = সোনার তরী ।
• ‘ গগনে গর্জে মেঘ’ ঘন বর্ষা । কূলে একা বসে আছি ; নাহি ভরসা।- পঙত্তিটি কার লেখা ? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• বিপদে মোরে রক্ষা কর এ নহে মোর প্রাথনা বিপদে আমি না যেন করি ভয় । – উদ্ধৃতাংশটুকুর রচয়িতা কে ? = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
• অধমের মধুমায়া নিষ্ফল বুলি আনন্দে নাচিছে পুত্র; স্নেহমোহে ভুলি সে ফল দিয়োনা তারে ভোগ করিবারে কেড়ে লও ; ফেলে দাও ; কাঁদাও তাহারে । কবিতাংশটির মূল কবিতা ও রচয়িতা = গান্ধারীর আবেদন – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
• নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাই আর নাহি রে- কোন কবির রচনা = রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
==============================
====================

★★★ কাজী নজরুল ইসলাম >>>

——————————————-
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল কবে, কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তরঃ ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ (২৪ মে ১৮৯৯) খ্রি:) চুরুলিয়া গ্রাম, আসানসোল, বর্ধমান পশ্চিমবঙ্গ।
প্রশ্নঃ তিনি মৃত্যুবরণ করেন কবে?
উত্তরঃ ২৯ আগষ্ট, ১৯৭৬; ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ।
প্রশ্নঃ বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে নজরুলকে কলকাতা থেকে ঢাকায় আনয়ন করা হয় কত সালে?
উত্তরঃ ১৯৭২ সালের ২৪মে
প্রশ্নঃ নজরুলকে কবে বাংলাদেশের সরকার নাগরিকত্ব প্রদান করে ?
উত্তরঃ ১৯৭৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি
প্রশ্নঃ নজরুল কবে মস্তিষ্কের ব্যাধিতে আক্রান্ত হন ?
উত্তরঃ ১৯৪২ সালের ১০ ই অক্টোবর ৪৩বছর বয়সে ।
প্রশ্নঃ নজরুলকে কবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডি. লিট উপাধি দেয় ?
উত্তরঃ ১৯৭৪ সালে
প্রশ্নঃ রবীন্দ্র ভারতী কবে ডি. লিট উপাধি দেয় ?
উত্তরঃ ১৯৬৯ সালে
প্রশ্নঃ ভারত সরকার তাঁকে কবে পদ্মভূষণ উপাধিতে ভূষিত করেন ?
উত্তরঃ ১৯৬০ সালে
প্রশ্নঃ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কবে থাকে জগত্তারিণী পুরস্কার প্রদান করেন ?
উত্তরঃ ১৯৪৫ সালে ।
প্রশ্নঃ কত সালে নজরুল ২১শে পদক পান ?
উত্তরঃ ১৯৭৬সালে।
প্রশ্নঃ কতসালে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার পান ?
উত্তরঃ ১৯৭৭সালে
প্রশ্নঃ বিবিসির বাংলা বিভাগ কর্তৃক জরিপকৃত (২০০৪) সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকায় নজরুলের অবস্থান কত ?
উত্তরঃ ৩য়
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে কবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় ?
উত্তরঃ ১৯৭২ সালের ২৪ মে স্বীকৃতি (সাংবিধানিক স্বীকৃতি এখনও দেওয়া হয়নি।
প্রশ্নঃ নজরুল কতবার ঢাকায় আসেনে ?
উত্তরঃ ১৩বার । প্রথম ১৯২৬
প্রশ্নঃ নজরুল কত বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন ?
উত্তরঃ ৫বার
প্রশ্নঃ নজরুল কোন চলচ্চিত্রে নারদ চরিত্রে অভিনয় করেন ?
উত্তরঃ ধ্রুব
প্রশ্নঃ নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম কী?
উত্তরঃ ব্যথার দান (প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ১৯২২)।
প্রশ্নঃ নজরুলের প্রথম প্রকাশিত রচনার নাম কী?
উত্তরঃ বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী (প্রকাশ: জ্যৈষ্ঠ ১৩২৬; সওগাত)।
প্রশ্নঃ নজরুলের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম কী?
উত্তরঃ মুক্তি (প্রকাশ: শ্রাবণ ১৩২৬)।
প্রশ্নঃ নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম কী?
উত্তরঃ বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী (প্রকাশ: জ্যৈষ্ঠ ১৩২৬)।
প্রশ্নঃ নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের নাম কী?
উত্তরঃ ব্যথার দান (প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ১৯২২)।
প্রশ্নঃ নজরুলের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম কী?
উত্তরঃ অগ্নি-বীণা (সেপ্টেম্বর, ১৯২২)।
প্রশ্নঃ নজরুলের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম কি?
উত্তরঃ বাঁধনহারা (১৯২৭)।
প্রশ্নঃ নজরুলের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধের নাম কী?
উত্তরঃ তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা (প্রকাশ: কার্তিক ১৩২৬)।
প্রশ্নঃ নজরুলের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
উত্তরঃ যুগবাণী (অক্টোবর ১৯২২)।
প্রশ্নঃ নজরুলের প্রথম প্রকাশিত নাটকের নাম কী?
উত্তরঃ ঝিলিমিলি (১৩৩৪, নওরোজ)।
প্রশ্নঃ প্রথম প্রকাশিত নাট্য গ্রন্থ কী?
উত্তরঃ ঝিলিমিলি (১৩৩৭)। এই গ্রন্থে মোট তিনটি নাটক আছে।
প্রশ্নঃ নজরুলের প্রথম বাজেয়াপ্ত গ্রন্থের নাম কী?
উত্তরঃ বিষের বাঁশী (প্রকাশ: আগষ্ট ১৯২৪/ বাজেয়াপ্ত: ২৪ অক্টোবর ১৯২৪)।
প্রশ্নঃ ভোর হল দোর খোল, খুকু মণি উঠো রে – পঙক্তিটি কার লেখা?
উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলাম ।
প্রশ্নঃ বাংলা সাহিত্যের মুক্তক ছন্দের প্রবর্তক কে?
উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলাম।
প্রশ্নঃ কাজী নজরুলে বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় অবস্থিত?
উত্তরঃ ময়মনসিংহের ত্রিশালে
প্রশ্নঃ নজরুল মঞ্চ কোথায় অবস্থিত ?
উত্তরঃ বাংলা একাডেমিতে
প্রশ্নঃ বিশ্বকে দেখবো আমি আপন হাতের মুঠায় করে – পঙক্তিটি কার লেখা ?
উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলাম।
প্রশ্নঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুতে শোকার্ত কাজী নজরুল ইসলাম কোন কবিতাটি লিখেছিলেন?
উত্তরঃ রবি-হারা
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ কয়টি?
উত্তরঃ ২৩টি
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
উত্তরঃ নির্ঝর
প্রশ্নঃ ঝিঙেফুল ও সাতভাই চম্পা কি?
উত্তরঃ কাজী নজরুলের ছোটদের কাব্যগ্রন্থ
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত তিনটি পত্রিকার নাম কী?
উত্তরঃ ধূমকেতু (১৯২২), লাঙ্গল (১৯২৫), দৈনিক নবযুগ (১৯৪১)
প্রশ্নঃ বার্ধক্য তাহাই যাহা পুরাতনকে , মিথ্যাকে , মৃত্যুকে আকড়াইয়া পড়িয়া থাকে – কার কথা?
উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলামের।
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল ইসলামের ৩টি অনুবাদ গ্রন্থ –
উত্তরঃ কাব্যে আমপারা , রুবাইয়াত্ -ই- হাফিজ, রুবাইয়াত্-ই-ওমর খৈয়াম।
প্রশ্নঃ ব্যথারদান, রিক্তের বেদন ও শিউলিমালা- এগুলো কি?
উত্তরঃ গল্পগ্রন্থ
প্রশ্নঃ বিয়ের পর নজরুলের স্ত্রী আশালতা সেন গুপ্তের নাম রাখা হয় –
উত্তরঃ প্রমিলা দেবী
প্রশ্নঃ চল্ চল্ চল্ সঙ্গীতকে কবে বাংলাদেশ পদাতিক বাহিনীর ‘রণসঙ্গীত’ হিসেবে গ্রহণ করা হয় ?
উত্তরঃ ১৯৯৬সালে।
প্রশ্নঃ নজরুল প্রতিভা কার লেখা ?
উত্তরঃ কাজী আবদুল ওয়াদুদ।
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল ইসলাম কবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে সাক্ষাত্ করেন?
উত্তরঃ ১৯২১সালের অক্টোম্বর মাসে
প্রশ্নঃ নজরুলের গজলগুলোকে বলা হয় –
উত্তরঃ নজরুলিয়া । (তিনিই প্রথম বাংলা গজল লেখেন। )
প্রশ্নঃ প্রথম বাঙালি মুসলমান চলচ্চিত্রকার কে?
উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলাম্
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল ইসলাম কোথায় সমাহিত করা হয় ?
উত্তরঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে।
প্রশ্নঃ নজরুল স্মৃতিবিজড়িত কয়েকটি দর্শনীয় স্থান
উত্তরঃ ত্রিশাল , ময়মনসিংহ, দৌলতপুর , কুমিল্লা , কার্পাসডাঙা, চুয়াডাঙ্গা ।
প্রশ্নঃ কাজী নজরুলকে নিয়ে কোন দেশে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছে ?
উত্তরঃ কানাডা
প্রশ্নঃ জীবন বন্দনা কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
উত্তরঃ ৬মাত্রার মাত্রাবৃত্ত ছন্দে।
প্রশ্নঃ সঞ্চিতা কাব্যগ্রন্থ নজরুল কাকে উত্সর্গ করেন ?
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
প্রশ্নঃ অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ নজরুল কাকে উত্সর্গ করেন ?
উত্তরঃ বারীন্দ্র কুমার ঘোষকে
প্রশ্নঃ বাঁধন হারা উপন্যাস নজরুল কাকে উত্সর্গ করেন ?
উত্তরঃ নলিনীকান্ত সরকারকে
প্রশ্নঃ বসন্ত গীতিনাট্য নজরুল কাকে উত্সর্গ করেন ?
উত্তরঃ রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরকে।
প্রশ্নঃ কাজী নজরুলের পিতার নাম কী?
উত্তরঃ কাজী ফকির আহমদ।
প্রশ্নঃ নজরুলের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বর্ণনা।
উত্তরঃ দশ বছর বয়সে গ্রামের মক্তব থেকে নিম্ন প্রাইমারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ (১৯০৯) হন। এরপর ১৯১৪ সালের ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে, ১৯১৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের রানীগঞ্জ শিয়ারশোল রাজস্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকে ১৯১৭ সালে দশম শ্রেণী প্রি-টেস্ট পরীক্ষার সময় লেখাপড়া অসমাপ্ত রেখে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
প্রশ্নঃ বার বছর বয়সে তিনি কোথায় যোগ দেন?
উত্তরঃ লেটোর দলে এবং দলে ‘পালা গান’ রচনা করেন।
প্রশ্নঃ নজরুল বাংলা সাহিত্যে কী নামে পরিচিত?
উত্তরঃ বিদ্রোহী কবি।
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল বাংলাদেশের কোন সঙ্গীতের রচয়িতা?
উত্তরঃ রণসঙ্গীত।
প্রশ্নঃ রণসঙ্গীত হিসাবে মূল কবিতাটির কত চরণ গৃহীত?
উত্তরঃ ২১ চরণ।
প্রশ্নঃ রণসঙ্গীত কী শিরোনামে সর্বপ্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
উত্তরঃ নতুনের গান শিরোনামে ঢাকার শিখা পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫ বঙ্গাব্দে) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
প্রশ্নঃ কাজী নজরুলের কোন গ্রন্থে এই সঙ্গীত অন্তর্ভুক্ত আছে?
উত্তরঃ সন্ধ্যা কাব্য গ্রন্থে।
প্রশ্নঃ বিদ্রোহী কবিতা প্রথম কোথায় প্রকাশিত হয়?
উত্তরঃ সাপ্তাহিক বিজলীর ২২ পৌষ (১৩২৮) সংখ্যায়।
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল কোন দৈনিক পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন?
উত্তরঃ সান্ধ্য দৈনিক নবযুগ (১৯২০)-এর।
প্রশ্নঃ এই পত্রিকার সঙ্গে আর কোন দুজন রাজনৈতিক নেতা যুক্ত ছিলেন?
উত্তরঃ কমরেড মুজাফফর আহমদ ও শেরে বাংলা ফজলুল হক।
প্রশ্নঃ কাজী নজরুলের সম্পদনায় কোন অর্ধসাপ্তাহিক পত্রিকা বের হত?
উত্তরঃ ধূমকেতু (১৯২২)।
প্রশ্নঃ ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের কোন বাণী ছাপা হয়?
উত্তরঃ আয় চলে আয়রে ধূমকেতু। আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু, দুর্দিনের এই দুর্গশিরে উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন।
প্রশ্নঃ কোন কবিতা প্রকাশিত হলে তিনি গ্রেফতার হন?
উত্তরঃ ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (১৯২২) আনন্দময়ীর আগমনে।
প্রশ্নঃ রবীন্দ্রনাথ তাঁর কোন গীতিনাট্য নজরুলকে উৎসর্গ করেন?
উত্তরঃ বসন্ত।
প্রশ্নঃ হুগলি জেলে কর্মকর্তাদের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে নজরুল অনশন করলে রবীন্দ্রনাথ নজরুলকে কী লিখে টেলিগ্রাফ পাঠান?
উত্তরঃ Give up hunger strike. Our literature claims you.
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল জেল থেকে মুক্তি পান কবে?
উত্তরঃ ১৯২৩-এর ১৫ অক্টোবর।
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল ইসলাম কংগ্রেসের রাজনীতিতে যোগ দেন কখন?
উত্তরঃ ১৯২৫-এ ফরিদপুর কংগ্রেসের প্রাদেশিক সম্মেলনে।
প্রশ্নঃ নজরুল সম্পাদিত লাঙ্গল পত্রিকার প্রকাশকাল কত?
উত্তরঃ ১৯২৫ সাল।
প্রশ্নঃ কাজী নজরুলকে জাতীয় সংবর্ধনা দেয়া হয় কোথায় এবং কখন?
উত্তরঃ ১৯২৯-এর ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার অ্যালবার্ট হলে।
প্রশ্নঃ নজরুলের মোট কয়টি গ্রন্থ বাজেয়াপ্ত হয়, কী কী?
উত্তরঃ ৫টি। বিশের বাঁশী, ভাঙার গান, প্রলয় শিখা, চন্দ্রবিন্দু, যুগবাণী।
প্রশ্নঃ জেলে বসে লেখা জবানবন্দির নাম কী?
উত্তরঃ রাজবন্দির জবানবন্দি। রচনার তারিখ: ৭/১/১৯২৩
প্রশ্নঃ দারিদ্র্য কবিতাটি নজরুল ইসলামের কোন কাব্যের অন্তর্গত?
উত্তরঃ সিন্ধু হিন্দোল কাব্যের।
প্রশ্নঃ কোন কবিতা রচনার জন্য কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীনা’কাব্য নিষিদ্ধ হয়?
উত্তরঃ রক্তাম্বরধারিনী মা।
প্রশ্নঃ বিদ্রোহী কবিতাটি কবি নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
উত্তরঃ অগ্নি-বীণা।
প্রশ্নঃ অগ্নি-বীণা কাকে উৎসর্গ করা হয়?
উত্তরঃ বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে।
প্রশ্নঃ অগ্নি-বীণার প্রথম কবিতা কোনটি?
উত্তরঃ প্রলয়োল্লাস।
প্রশ্নঃ অগ্নিবীণাতে কয়টি কবিতা আছে?
উত্তরঃ ১২টি
প্রশ্নঃ সঞ্চিতাতে কয়টি কবিতা আছে?
উত্তরঃ ৭৮টি কবিতা
প্রশ্নঃ নজরুলের কোনটি পত্রোপন্যাসের পর্যায়ভুক্ত।
উত্তরঃ বাঁধনহারা।
প্রশ্নঃ কবির বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো কী কী?
উত্তরঃ অগ্নি-বীণা (১৯২২), বিষের বাঁশি (১৯২৪), ভাঙার গান (১৯২৪), সাম্যবাদী (১৯২৫), সর্বহারা (১৯২৬), ফণি-মনসা (১৯২৭), জিঞ্জির (১৯২৮), সন্ধ্যা (১৯২৯), প্রলয় শিখা (১৯৩০) ইত্যাদি।
প্রশ্নঃ জীবনী কাব্যগুলো কী কী?
উত্তরঃ চিত্তনামা (১৯২৫) ও মরু-ভাস্কর (১৯৫০)।
প্রশ্নঃ চিত্তনামা ও মরু-ভাস্কর কার জীবনভিত্তিক কাব্য?
উত্তরঃ চিত্তনামা : দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ; মরু-ভাস্কর: হয়রত মুহম্মদ।
প্রশ্নঃ হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী গ্রন্থ কোনটি?
উত্তরঃ মরু ভাস্কর।
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাসগুলোর নাম উল্লেখ কর।
উত্তরঃ বাঁধনহারা (১৯২৭), মৃত্যুক্ষুধা (১৯৩০) ও কুহেলিকা (১৯৩১)।
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থগুলোর নাম কর।
উত্তরঃ ব্যথার দান (১৯২২), রিক্তের বেদন (১৯২৫), শিউলিমালা (১৯৩১)।
প্রশ্নঃ সংগীত বিষয়ক গ্রন্থাবলীর উল্লেখ কর।
উত্তরঃ চোখের চাতক, নজরুল গীতিকা, সুর সাকী, বনগীতি প্রভৃতি।
প্রশ্নঃ বাল্যকাল তিনি কী নামে পরিচিত ছিলেন?
উত্তরঃ দুখু মিয়া।
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল ইসলাম কী নামে খ্যাত?
উত্তরঃ বিদ্রোহী কবি।
প্রশ্নঃ বাংলা ভাষায় কে প্রথম ইসলামী গান ও গজল রচনা করেন?
উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলাম।
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল ইসলাম ১৯১৭ সালে কত নং বাঙালি পল্টনে যোগ দেন।
উত্তরঃ ৪৯ নং
প্রশ্নঃ আদালতে প্রদত্ত কবি নজরুলের রচনার নাম কী?
উত্তরঃ রাজবন্দীর জবানবন্দি
প্রশ্নঃ ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত বিষের বাঁশী কাব্যগ্রন্থ কার নামে উৎসর্গ করেন।
উত্তরঃ মিসেস এম রহমান
প্রশ্নঃ চন্দ্রবিন্দু কাজী নজরুল ইসলামের কোন ধরনের রচনা?
উত্তরঃ গল্প
প্রশ্নঃ ভাঙ্গার গান কাজী নজরুল ইসলামের কোন ধরনের রচনা?
উত্তরঃ কাব্যগ্রন্থ।
প্রশ্নঃ নারী কবিতাটি কে লিখেছেন ?
উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলাম ।
প্রশ্নঃ আবুল মনসুর আহমদ এর কোন গ্রন্থে কাজী নজরুল ইসলাম ভূমিকা রচনা করেছেন?
উত্তরঃ আয়না
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল ইসলামের তিনটি নাটকের নাম করুন।
উত্তরঃ ঝিলমিলি, আলেয়া, পুতুলের বিয়ে ।
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নি-বীণা কাব্যের প্রথম কবিতাটি কোনটি?
উত্তরঃ প্রলয়োল্লাস।
প্রশ্নঃ ১৯৩০ সালে কোন কবিতার জন্য নজরুল ইসলাম ৬ মাসের জন্য কারাবরণ করেন?
উত্তরঃ প্রলয় শিখা
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল ইসলামের প্রেমমূলক রচনা কোনটি?
উত্তরঃ শিউলীমালা
প্রশ্নঃ সাম্যবাদী কাজী নজরুলের কোন জাতীয় রচনা? কত সালে কোথায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
উত্তরঃ কবিতা, ১৩৩২ বঙ্গাব্দে ১লা পৌষ লাঙ্গল পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
প্রশ্নঃ ‘আমি সৈনিক রচনাটি কবি নজরুল ইসলামের কোন গ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত।
উত্তরঃ দুর্দিনের যাত্রী।
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী এবং কত সালে প্রকাশিত হয়?
উত্তরঃ অগ্নিবীণা, ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল ইসলামের দুটি অনুবাদ গ্রন্থের নাম করুন।
উত্তরঃ রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ (১৯৩০) ও রুবাইয়াৎ-ই- ওমর খৈয়াম (১৯৬০)।
প্রশ্নঃ এ পর্যন্ত কাজী নজরুল ইসলামের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা কত?
উত্তরঃ ৫১টি
প্রশ্নঃ কাজী নজরুল ইসলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কোন গ্রন্থটি উৎসর্গ করেন?
উত্তরঃ সঞ্চিতা।
প্রশ্নঃ কাজী নজরুলের সাম্যবাদী কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
উত্তরঃ লাঙ্গল।
প্রশ্নঃ নজরুল সাহিত্যের লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তরঃ সংস্কার ও বন্ধন মুক্তি
প্রশ্নঃ কত সালে কাজী নজরুল ইসলাম আশালতা সেন গুপ্তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবন্ধ হন?
উত্তরঃ ১৯২৪ সালে
প্রশ্নঃ ১৯২২ সালে ধূমকেতুর শারদীয় সংখ্যায় কী কী প্রকাশের জন্য কাজী নজরুল ইসলামকে এক বৎসর কারাবরণ করতে হয়?
উত্তরঃ আনন্দময়ীর আগমনে কবিতা এবং বিদ্রোহীর কৈফিয়াৎ প্রকাশের জন্য।

ছান্দসিক কবি |

মহাকবি |

সাহিত্য বিশারদ |

যুগসন্ধিক্ষণের কবি।

বিদ্যাসাগর |

বিদ্রোহী কবি |